সিলেটের অমর কন্যা, বাংলার গৌরব, সিলেটের গর্ব, বাংলার রত্ন, এক আদর্শ নারীচিত্র। জন্মভূমির বুকে সাদর সম্ভাষণ। এই ধরণীতে কিছু মানুষ জন্মান আলোকবর্তিকা হয়ে। তাঁদের উপস্থিতি শুধু আশার আলো জ্বালায় না, যুগপৎ হয়ে ওঠে প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। ডা. জুবা*ইদা রহমান তেমনই এক বিরল মহিয়সী। তিনি সাবেক নৌবাহিনী প্রধান, Rear Admiral মাহ*বুব আলী খানের কন্যা, এক জ্ঞানী, অভিজাত ও দেশপ্রেমিক পরিবারে জন্ম নেওয়া এই মহীয়সী নারী আজ বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন তাঁর কর্ম, চরিত্র ও নিষ্কলুষ মানবিকতায়। তিনি কেবল একজন খ্যাতিমান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞই নন, তিনি এক পরিপূর্ণ মেয়ে, স্ত্রী, মা এবং সর্বোপরি এক নিঃস্বার্থ সেবিকা, যিনি মমতা, দায়িত্ব ও গভীর শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে পারিবারিক বন্ধনে হয়ে উঠেছেন এক অমর উদাহরণ। রা*জনৈতিক চক্রান্ত, নির্মম সময় ও নির্যা*তনের কালো ছায়ার ভেতরেও তিনি যাঁর পাশে থেকেছেন দিনরাত, যাঁকে নিঃশব্দে সেবা করে গেছেন বছরের পর বছর, তিনি হলেন এই দেশের তিনবার নির্বা*চিত একজন আপসহীন নে*ত্রী, গণ*তন্ত্রের প্রতীক, যাঁর সংগ্রামী জীবন আজ ইতিহাসে খোদাই হয়ে আছে। ডা. জুবা*ইদা রহমান শুধু একজন চিকিৎসক না, তিনি সাহচর্যের প্রতিমা, স্নেহময় বন্ধুর মতো, পরম আস্থার ছায়াসঙ্গী। একজন আদর্শ পুত্রবধূ কী হতে পারেন, তার জীবন্ত প্রতিচ্ছবি তিনি। যে দুঃসময়ে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেয়, সেই সময়েও তিনি থেকেছেন অটল, থেকেছেন একান্তভাবে। তাঁর কোমলতা ছিল অপরিসীম, আর সেই কোমলতা দিয়েই তিনি প্রমাণ করেছেন, নীরবতাও একদিন হয়ে ওঠে ইতিহাসের সবচেয়ে উচ্চকিত প্রতিরোধ। আজ সেই ডা. জুবা*ইদা রহমান ফিরে আসছেন। সিলেটবাসীর চোখে আজ আনন্দাশ্রু, বাংলার হৃদয়ে উৎসব। কারণ এই মাটি আজ ফিরে পাচ্ছে তার এক গর্বিত কন্যাকে, এক আলোকবর্তিকাকে। তিনি ফিরছেন, যেন এক নতুন সূর্যোদয়, যেন আশার নবজন্ম। আপনার মতো একজন নারী হাজার বছরে একবার জন্মান। আপনার সৌন্দর্য, আপনার বিনয়, আপনার জ্ঞান ও সাহস একত্রে তৈরি করেছে এমন এক চরিত্র, যাঁকে দেখে নতুন প্রজন্ম শিখতে পারে, শক্তি মানেই উচ্চকণ্ঠ নয়, সাহস মানেই নিরবতার ভেতরেও বজ্রনিনাদ ধ্বনিত হওয়া। প্রিয় আপা, সিলেটের পক্ষ থেকে জানাই আপনাকে অন্তর থেকে স্বাগতম। আপনি আমাদের অহংকার, আপনি আমাদের হৃদয়ের এক অমূল্য রত্ন। আপনার আগমন আমাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। আপনি সিলেটের মাটিতে শুধু একজন অতিথি নন, আপনি আমাদের আত্মার আত্মীয়। স্বাগতম সিলেটের কন্যা। স্বাগতম গণ*তন্ত্রের ছায়াসঙ্গী। স্বাগতম বাংলার শ্রেষ্ঠ আদর্শবতী নারী।


 

Comments

Popular Posts

প্রাথমিকে পরীক্ষা পদ্ধতি পুনর্বহাল, বৃত্তি চালুর ঘোষণা  প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুনরায় পরীক্ষা পদ্ধতি চালুর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি প্রদানের কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার (৩ মে) লক্ষ্মীপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে করণীয় শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন। উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, মন্ত্রণালয়ের প্রধান লক্ষ্য হলো প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম সাক্ষরতা নিশ্চিত করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিশুরা যেন তাদের মাতৃভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলতে, পড়তে ও লিখতে পারে এবং একইসঙ্গে গাণিতিক বিষয়েও দক্ষতা অর্জন করতে পারে। শিক্ষকের ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, শিক্ষকরা সমাজের ও জাতির জন্য দায়িত্ব পালন করছেন এবং একজন শিক্ষকই শিশুদের জীবনের সঠিক পথ দেখাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেন। প্রধান শিক্ষকদের টিম লিডার হিসেবে বিদ্যালয় পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সভায় জেলা প্রশাসক রাজীব কুমার সরকারের সভাপতিত্বে এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সম্রাট খীসার সঞ্চালনায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক পিইডিপি-৪ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ সাজ্জাদসহ অন্য শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। উপদেষ্টা আরও বলেন, মন্ত্রণালয় যৌক্তিক দাবিকে স্বীকৃতি দেয় এবং তা বাস্তবায়নে সর্বদা সচেষ্ট থাকে। শূন্যপদ পূরণ এবং অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা থাকলেও ইতোমধ্যে অনেক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মৌলিক শিক্ষার পাশাপাশি বিতর্ক, দেয়ালিকা উৎসব ও চিত্রাঙ্কনের মতো সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এর আগে, উপদেষ্টা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ‘জেলা প্রশাসন গ্রন্থাগার’ পরিদর্শন করেন এবং পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘ভ্রাম্যমাণ বইমেলার’ স্টল ঘুরে দেখেন।