দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হতে শুরু করেছে।

 সংগৃহীত


পদ্মা সেতু চালুর এক মাসেই অর্থনৈতিক সাফল্য পেতে শুরু করেছে খুলনা অঞ্চল। করে যোগাযোগ ও কৃষিক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। খুলনা থেকে ঢাকা রুটে যানবাহনের চাপ বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। আর কৃষিক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ বেড়েছে ২৫ শতাংশেরও বেশি।



পদ্মা সেতু চালুর এক মাস পেরোতেই যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা হয়েছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে। ফলে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে। খুলনা থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য মাওয়া ঘাটের পাশাপাশি ব্যবহার হতো আরিচা ঘাট।


তবে পদ্মা সেতু চালুর পর যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন পরিবহন। বেড়েছে অত্যাধুনিক শতাধিক বাস। যাত্রীও বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। পরিবহন খাতে এমন বড় পরিবর্তনে দারুণ খুশি ব্যবসায়ীরা।


খুলনা বিভাগীয় বাস মালিক সমিতির সহসভাপতি কাজী এনায়েত হোসেন বলেন, আগে যেমন খুলনা পর্যন্ত আসত, এখন সাতক্ষীরা, আশাশুনি, পিরোজপুর এসব দিকেও গাড়ি চলতেছে। প্রতিটি পরিবহনে অন্তত ২০-২৫টি গাড়ি ঢুকেছে।  


খুলনা বিভাগীয় বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ কামাল বলেন, এই এক মাসে আমরা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ যা প্রত্যাশা করেছি, তা শতভাগই পূরণ হয়েছে।


পদ্মা সেতুর সুফল পেয়ে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে এ অঞ্চলের কৃষি খাত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সবজি যাচ্ছে আগের থেকে অন্তত ২৫ শতাংশ বেশি।


কেসিসি পাইকারি বাজার আড়তদার মালিক সমিতির সভাপতি শেখ নজরুল ইসলাম বলেন, এই এক মাসে আমাদের নতুন নতুন ব্যবসায়ী সৃষ্টি হয়েছে। যারা আমাদের মাধ্যমে বিভিন্ন মালামাল ক্রয়-বিক্রয় করে সারাদেশে পাঠাচ্ছে।    


গত এক মাসে খুলনা থেকে ৪০টি হিমায়িত কনটেইনার চিংড়ি চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রপ্তানি হয়েছে, যা অন্য সময়ের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি।


বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস হুমায়ুন কবীর বলেন, পদ্মা সেতু হওয়ার কারণে যে রফতানি আমরা করেছি তা বিগত সময়ের তুলনায় ৭৫ শতাংশ বেশি। কারণ, তখন বাধ্যতামূলকভাবে অপেক্ষা করতে হতো যে কখন জাহাজ মোংলা বন্দরে আসবে।


এদিকে পদ্মা সেতু চালুর আগে থেকেই ভাঙা থেকে খুলনা পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশে অধিকাংশ জমি বিভিন্ন শিল্প কারখানার নামে কেনা হয়েছে। বিভিন্ন শিল্পকারখানা গড়ে উঠলেও গ্যাস সরবরাহের অভাবে এখনো চালু করা যায়নি। কেউ কেউ চালু করলেও অনেকেই অপেক্ষায় আছেন দক্ষিণাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের।


খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহসভাপতি শরীফ আতিয়ার রহমান বলেন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল বিষয়ে ওইভাবে আমরা পূর্ণতা পায়নি। আমরা পূর্ণতা তখনই পাব যখন আমাদের দক্ষিণাঞ্চলে গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ হবে।    


এ ছাড়া পদ্মা সেতুর সুফল হিসেবে খুলনা অঞ্চলের পর্যটনশিল্পেও ব্যাপক পরিবর্তনের আশা সংশ্লিষ্টদের।

Comments

Popular Posts

প্রাথমিকে পরীক্ষা পদ্ধতি পুনর্বহাল, বৃত্তি চালুর ঘোষণা  প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুনরায় পরীক্ষা পদ্ধতি চালুর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি প্রদানের কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার (৩ মে) লক্ষ্মীপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে করণীয় শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন। উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, মন্ত্রণালয়ের প্রধান লক্ষ্য হলো প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম সাক্ষরতা নিশ্চিত করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিশুরা যেন তাদের মাতৃভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলতে, পড়তে ও লিখতে পারে এবং একইসঙ্গে গাণিতিক বিষয়েও দক্ষতা অর্জন করতে পারে। শিক্ষকের ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, শিক্ষকরা সমাজের ও জাতির জন্য দায়িত্ব পালন করছেন এবং একজন শিক্ষকই শিশুদের জীবনের সঠিক পথ দেখাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেন। প্রধান শিক্ষকদের টিম লিডার হিসেবে বিদ্যালয় পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সভায় জেলা প্রশাসক রাজীব কুমার সরকারের সভাপতিত্বে এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সম্রাট খীসার সঞ্চালনায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক পিইডিপি-৪ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ সাজ্জাদসহ অন্য শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। উপদেষ্টা আরও বলেন, মন্ত্রণালয় যৌক্তিক দাবিকে স্বীকৃতি দেয় এবং তা বাস্তবায়নে সর্বদা সচেষ্ট থাকে। শূন্যপদ পূরণ এবং অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা থাকলেও ইতোমধ্যে অনেক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মৌলিক শিক্ষার পাশাপাশি বিতর্ক, দেয়ালিকা উৎসব ও চিত্রাঙ্কনের মতো সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এর আগে, উপদেষ্টা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ‘জেলা প্রশাসন গ্রন্থাগার’ পরিদর্শন করেন এবং পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘ভ্রাম্যমাণ বইমেলার’ স্টল ঘুরে দেখেন।